ডেস্ক নিউজ
প্রকাশিত: ০৩/০৩/২০২৪ ৯:২৭ এএম

আয়োজন মোটামুটি শেষ। এখন শুধু চূড়ান্ত সময়ের অপেক্ষা। আর সেই সময় হতে পারে আজ কাল বা পরশু। হ্যাঁ, বলা হচ্ছে মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে দেশটির জান্তা বাহিনীর পরাজয়ের কথা। মিয়ানমারের রাখাইনে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির সাথে পরাজয়ের খুব কাছাকাটি রয়েছে সরকারি জান্তা বাহিনী।

থাইল্যান্ড থেকে প্রকাশিত মিয়ানমারভিত্তিক গণমাধ্যম দ্য ইরাবতি, শনিবার এক প্রতিবেদনে আরাকান আর্মি তরফে এমন দাবির কথাই তুলে ধরেছে। আরাকান আর্মি জানিয়েছে, তারা রাখাইন রাজ্যের রাজধানী সিত্তের কাছের শহর পুন্নাগুনে জান্তা বাহিনীর হেডকোয়ার্টার দখলের কাছাকাছি রয়েছে।

গেলো ২৩ ফেব্রুয়ারি থেকে এই শহরে সাঁড়াশি আক্রমণ শুরু করে আরাকান আর্মি। পুন্নাগুনে শহর কেন্দ্রীয় রাজধানী ইয়াঙ্গুন আর আরাকানের রাজধানী সিত্তের সংযোগ সড়কে অবস্থিত। সেখানে বেশ আটঘাট বেঁধেই জান্তা বাহিনীও আরাকান আর্মিকে প্রতিরোধের করতে নামে। কিন্তু, বাস্তবে হয়েছে উল্টো।

আরাকান আর্মি বলছে, সিত্তে থেকে পুন্নাগুনে সামরিক সরবরাহ বন্ধ রেখেছে তারা। সে সঙ্গে শহর উপকণ্ঠে জান্তা বাহিনীর দুটি সশস্ত্র যান ধ্বংস করে দিয়েছে। এরপর গেলো দুই দিন ধরে আক্রমণের ধার বাড়িয়েছে। প্রতিউত্তরে জান্তা বাহিনীও প্রচণ্ড বিমান হামলা এবং গুলি চালিয়েছে।

এতে একটি বাজারে ১২ নাগরিক নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে আরো আর ৮০ জন। আরাকান আর্মি বলেছে, পান্নাগুন শহর থানার নিয়ন্ত্রণ তাদের হাতে নেয়ার পর সিত্তে মিলিটারি কমান্ডকে আত্মসমর্পণ করতে বলেছে। বর্তমানে শহরের বাসিন্দা ও জান্তা সরকারের কর্মকর্তাসহ প্রায় অর্ধেক মানুষ শহরটি ছেড়ে চলে গেছে।

জান্তা ও বিদ্রোহীদের হামলার ভয়ে রাখাইনের রাজধানী ছাড়ছে হাজার হাজার মানুষ। সিত্তে এবং গ্রামাঞ্চল থেকে হাজার হাজার মানুষ পালিয়ে যাচ্ছেন। বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি যে কোনো সময় শহরে হামলা চালাতে পারে এমন আশঙ্কায় তারা এলাকা থেকে পালাচ্ছেন।

আরাকান আর্মি যাতে সিত্তে শহরের ভেতরে ঢুকতে না পারে সেজন্য ইয়াংগুন-সিত্তে মহাসড়কের একটি সেতু মাইন বিস্ফোরণের মাধ্যমে উড়িয়ে দিয়েছে দেশটির জান্তা প্রশাসন। আরাকান আর্মির সেনাদের সিত্তে শহরে প্রবেশ ঠেকাতে এমন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। ফলে স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক অনেক বেড়ে গেছে।

সিত্তে শহরে বর্তমানে রাখাইনের মোট বাসিন্দার এক তৃতীয়াংশ লোক অবস্থান করছে। এরমধ্যে কেউ কেউ স্বচ্ছল নন, আবার কেউ বৃদ্ধ আর বাকিরা নিজেদের মালামাল চুরি হওয়া নিয়ে চিন্তিত। পালিয়ে যাওয়া মানুষদের বেশিরভাগ নৌকা ব্যবহার করে অন্যত্র সরে গেছে।

আরাকান আর্মি সম্প্রতি সিত্তের কাছের শহর পাকতোয়ার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে। এই বাহিনী গত ১৩ নভেম্বর থেকে রাখাইন রাজ্যে অভিযান জোরদার করে। এ সময় তারা জান্তা বাহিনীর ১৭০টিরও বেশি দুর্গ নিয়ন্ত্রণে নেয়। নিয়ন্ত্রণ গ্রহণ করে রাখাই রাজ্য ও পাশের সিন রাজ্যের ৯টি শহরের।

পাঠকের মতামত

মালয়েশিয়ার ইউএনএইচসিআরের সম্পৃক্ততা ছাড়াই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন

চলমান সংঘাতের মধ্যেই মালয়েশিয়া দেশটিতে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের মিয়ানমারে ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা এগিয়ে নিচ্ছে। ...
Single Page Footer